দাড়ি রাখা নবীদের সুন্নত

- আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ মার্চ ২০২১ ১১১৬ বার পড়া হয়েছে
দাড়ি পৌরুষের প্রতীক। ইসলামী রীতিনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। নারী-পুরুষের মুখাবয়বের অন্যতম পার্থক্য এ দাড়ি। এটি আল্লাহর সৃষ্টিগত ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্যের চমৎকার বিভাজন। আর তাঁর সৃষ্টির কোনো জিনিসই মানুষের জন্য অপ্রয়োজনীয় ও অমূলক নয়। তাই আবশ্যকীয় ধর্মীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি এ দাড়ির রয়েছে স্বাস্থ্যগত ও বৈজ্ঞানিক নানা উপকারিতা। আজকের লেখায় ইসলামে দাড়ি রাখার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা তুলে ধরব।
কোরআন-হাদিসে দাড়ি রাখার নির্দেশনা : রাসুল (সা.)-এর প্রতিটি হাদিস মুমিনের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য করো এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত: ২০)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘রাসুল তোমাদের যা আদেশ দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৭)
তাই দাড়ি রাখা নিয়ে রাসুল (সা.)-এর আদিষ্ট হাদিসগুলো উম্মতের জন্য আমল করা অপরিহার্য। এখানে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো:
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) গোঁফ নিশ্চিহ্ন করতে, আর দাড়ি বড় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬২৪)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা গোঁফকে কর্তন করো এবং দাড়িকে লম্বা করো। তোমরা অগ্নিপূজকদের বিপরীত করো। (মুসলিম, হাদিস : ৬২৬)
বিখ্যাত তাবেয়ি ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা (রা.) বলেন, জনৈক অগ্নিপূজক আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে এসেছিল। তার দাড়ি মুণ্ডানো ছিল ও গোঁফ লম্বা ছিল। আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, ‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের ধর্মের নিয়ম।’ আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘কিন্তু আমাদের দ্বিনের বিধান, আমরা গোঁফ কর্তন করব ও দাড়ি লম্বা রাখব।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ২৬০১৩)
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) গোঁফ নিশ্চিহ্ন করতে, আর দাড়ি বড় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬২৪)
দাড়িকে কটাক্ষ করা পাপ : ইসলামের কোনো বিধান, ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কিত সাধারণ কোনো বিষয়, নবীজির কোনো সুন্নত, এমনকি প্রমাণিত কোনো মুস্তাহাব আমলের প্রতি অবজ্ঞাসূচক বাক্য ব্যবহার করা অথবা অবজ্ঞা-প্রকাশক কোনো আচরণ করা কুফরি। ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে এসেছে, ‘ব্যঙ্গবিদ্রুপকারী যদি ইসলামের কোনো বিধানকে হালকা মনে করে উপহাস করে এবং অস্বীকারমূলক শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে, যদিও আন্তরিক বিশ্বাস এর বিপরীত হয়।’ (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ২/৩৭৬)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে দাড়ি : ইউনানি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গলা ও বক্ষকে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করে। আধুনিক চিকিৎসাবিদদের একটি গবেষণায় জানা যায়, সব সময় দাড়িতে খুর চালালে চোখের শিরায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এতে চোখের জ্যোতি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে। আবার দাড়ি না রাখলে যৌনশক্তি হ্রাস পেতে থাকে। তা ছাড়া দাড়ি জীবাণুকে দাড়ির ভেতরে ঢুকতে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি করে।
বিবিসির ‘ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর’ নামের অনুষ্ঠানের উদ্যোগে সম্প্রতি জীবাণু নিয়ে একটা ছোট্ট পরীক্ষা পরিচালিত হয়। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লিন শেভড পুরুষের চেয়ে দাড়িওয়ালাদের মুখে রোগ-জীবাণু বেশি—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতাল সমপ্রতি এ নিয়ে গবেষণা চালায়। ‘জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে’ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই বেশি রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) বলে যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চেয়ে দাড়ি কামানোদের মুখে তিন গুণ বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে।
এর কারণ সম্পর্কে গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ঘষা লাগে, তা ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অন্য দিকে দাড়ি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বিবিসির ‘ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর’ অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরুষের দাড়ি থেকে ব্যাকটেরিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে একই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবীজির আদিষ্ট এই সৌন্দর্যমণ্ডিত দাড়ি সুন্নাহসম্মত পন্থায় রাখার তাওফিক দান করুন।
সুত্র.কালের কন্ঠ ।